৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের চিন্তা গুজব: বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থনীতি

Sharing is caring!

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করার কথা চিন্তাও নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট দুইটি বাতিল করার কথা বাংলাদেশ ব্যাংকের চিন্তা-চেতনার মধ্যেও নেই। এ ধরনের বিষয় আমরা চিন্তা করিনি। বাতিল করার সিদ্ধান্ত তো অনেক পরের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেছেন। সরকারও যদি এ ধরনের কোনো চিন্তাও করত তাহলে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিত।’

এদিকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের খবর সত্য নয়।

মসিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনায় মূল ইস্যু ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন কাজ এবং তারা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করছে তা নিয়ে। তবে শুদ্ধি অভিযান এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ কোনো আলোচনা হয়নি।’

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে বৈঠকে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমাদের কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাতে মনে হয়েছে সবখবর সঠিক নয়। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের খবরটি ভিত্তিহীন।’

সূত্র জানায়, অনেক কালো টাকার মালিক ব্যাংকের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ অর্থ বাসাবাড়িতে জমা করে রাখছেন। এসব অর্থ তারা নানা অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে। এ টাকা থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না, অন্যদিকে এইসব টাকা অর্থনীতির মূল স্রোতেও আনছে না। অধিকাংশ কালো টাকার মালিক ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ব্যাংকের পরিবর্তে বাড়িতে গচ্ছিত রাখছেন। সাম্প্রতিককালে দেশে ক্যাসিনো, জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকের বাসা, অফিসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। উদ্ধার হওয়া এসব টাকার আয়ের কোনো উৎস দেখাতে পারছেন না তারা। এইসব কারণে সরকার ভারতের মতো ৫০০ ও ১০০০ হাজার টাকার নোট বাতিল করতে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের কোনো চিন্তা করছে না।

উল্লেখ্য ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ভারত সরকার সে দেশের অবৈধ জমানো টাকা মূল স্রোতে বা বিনিয়োগে নিয়ে আসতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে। নরেন্দ্র মোদি সরকার এ দুইটি নোট বাতিল করে সফলতা পায়। এতে করে দেশের সব অবৈধ অর্থ দেশের অর্থনীতিরি মূল স্রোতে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *