নুসরাত হত্যা মামলা বিচার বিভাগের জন্য প্রেস্টিজ’

ফেনী বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

ফেনীর আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় দেওয়া হবে ২৪ অক্টোবর।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন নারী ও শিশু নির্যাতন নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ। যুক্তিখণ্ডন শেষে দুই পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, নুসরাত হত্যা মামলা বাংলাদেশের জন্য প্রেস্টিজ, বিচার বিভাগের জন্য প্রেস্টিজ।

রায়ের তারিখ ঘোষণার পর এক ব্রিফিংয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গত ২৭ জুন মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও বাবা মাওলানা এ কে এম মুসা ও নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হানসহ ৮৭ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে।’

শাহজাহান সাজু জানান, সোমবার বিচারক যুক্তিখণ্ডন শেষে সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘আদালতের এজলাসের বাইরে মামলা নিয়ে কোনো ধরনের কথা হবে না। কারণ নুসরাত হত্যা মামলাটি শুধু ফেনীর নয়, বাংলাদেশের প্রেস্টিজ, বিচার বিভাগের প্রেস্টিজ। আমার সাথে (বিচারক) কোনোভাবে একান্তে ব্যক্তিগত যোগোযোগ করার দরকার নেই।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হাফেজ আহমেদ জানান, আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পেছনে যতসব যুক্তি উপস্থাপন করা দরকার সব করা হয়েছে। এতসব প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করেন তিনি।

সোমবার আদালতে ১৬ জন আসামির মধ্যে ১৫ জনকে হাজির করা হয়। এদিকে আসামি কামরুন নাহার মনি বন্দি থাকা অবস্থায় কন্যা সন্তানের মা হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এ বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যায় নুসরাত জাহান রাফি। এ মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবসার উদ্দিন, ওই মাদরাসার ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, নূর উদ্দিন, সোনাগাজী উপেজলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২৯ মে ফেনীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ আলম। এছাড়া প্রায় ৮০৮ পৃষ্ঠার সামগ্রিক নথিটি গত ২৮ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *