সরকারের পদত্যাগ দাবি করলেন কাদের সিদ্দিকী

রাজনীতি

Sharing is caring!

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে এতো দুর্নীতিবাজ থাকলে সরকারের ক্ষমতায় থাকবার কোন অধিকার নেই। এমনিতেই এই সরকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়নি।

সোমবার(৩০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘চলমান অভিযান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশ আজ সংকটের মুখোমুখি, দেশকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে নাসরিন সিদ্দিকী, প্রিন্সিপাল ইকবাল সিদ্দিকী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতিক।

দেশের এই সময়ে চাই সরকার একটি জাতীয় সংলাপ আয়োজন করুক- অভিমত ব্যক্ত করে বঙ্গবীর বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা সংলাপ চেয়েছিলাম, শেখ হাসিনা বাধ্য হয়েছিল সংলাপ দিতে। এবারও তাকে সংলাপ করতেই হবে। দেশকে বাঁচাতে হলে সংলাপ করতেই হবে। আওয়ামী লীগ নেতাদের ঠেকিয়ে দুর্নীতি মুক্ত করলেই চলবে না। সর্বক্ষেত্রে অভিযান চালাতে হবে। মানুষ এখন খালেদা জিয়ার দুই কোটি টাকার মামলার বিষয়টি আমলে নিতে চায় না। এখন জনগন বর্তমান সরকারের লোকজনের দুর্নীতিকেই আমলে নিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলের পক্ষে বর্তমানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে সরকারকে মুক্তকণ্ঠে সমর্থন জানানোর কথা জানানো হয়। এর পাশাপাশি বলা হয়, এক্ষেত্রে শুধু আওয়ামী ঘরানার লোকদের একের পর এক গ্রেফতার দেখে আমরা অবাক ও বিস্মিত, তবে দেশের সমস্ত দুর্নীতি সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে, অন্য দল-গোষ্ঠী কি ধোয়া তুলসী পাতা? ব্যাংক, শেয়ারবাজার লুট, টেন্ডারবাজি, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি, লুটতরাজ- এসবের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধুকন্যা আন্তরিকভাবেই এ অভিযানে ব্রতী সেটা দেশবাসী দেখতে চায়। ৭১’র মতো সকলে মিলে দেশের এ চরম দুর্যোগ থেকে উত্তরণের চেষ্টা করি।

এতে আরও বলা হয়, শুধু ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন বা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব- এ রকম একটা ধারণা সৃষ্টির অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অথচ দেশে সাম্প্রতিকালে সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্লজ্জ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে, যেটা প্রশাসনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। যে প্রশাসন দিয়ে এত বড় দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে তাদের পক্ষে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান নেয়া কতটা সম্ভব তা বিবেচনার দাবি রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *