রংপুর-৩ উপনির্বাচন, ভোটার উপস্থিতি কম

জাতীয়

Sharing is caring!

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতির হার কম। নির্বাচনি কর্মকর্তারা তাই একরকম অলস সময় কাটাচ্ছেন। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের অর্ধেকটা পেরিয়ে গেলেও কোনো কোনো কেন্দ্র ভোট পড়েছে ১০ থেকে ১২টি। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এইচ এম এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ। তবে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান বলছেন, আগের রাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তাদের নেতাকর্মীরা ভোট দিতে আসতে পারছেন না। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় রংপুর সদরের ১৭৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। দুপুর ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কোনো কেন্দ্রেই ভোটারদের ভিড় নেই। ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তারাও বলছেন, দুপুর পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম ছিল।

তবে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও ভোটকেন্দ্রের বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবরও মেলেনি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম জানান, নির্বাচনে যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, তার সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, রংপুর-৩ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটাররা। কয়েকজন ভোটার বলেন, তারা নিজেরা সঠিকভাবে ভোট দিচ্ছেন। তবে যারা ভোটগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ পাননি। তাদের কারণে ভোট দিতে সময় লাগছে।

ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদ এরশাদ এবং স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী এরশাদের ভাতিজা মকবুল শাহরিয়ার ওরফে আসিফ শাহরিয়ার। তবে বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন।

সাদ এরশাদ সকালে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরে অন্য ভোটকেন্দ্রগুলোও ঘুরে দেখেন তিনি। নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদী বলে জানান তিনি।

সাদ এরশাদ বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটার উপস্থিতি আপাতত কম মনে হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার সংখ্যা বাড়তে পারে।

আসিফ শাহরিয়ারও মনে করছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার করে ভোট নেওয়া হচ্ছে বলে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হতে পারে। তবে ভোটার সংখ্যা বাড়বে।

নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদ জানিয়ে আসিফ বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই কিছু প্রতিবাদী ভোট পড়বে। তারা আমার পক্ষেই ব্যালটে সিল দেবেন। এসব ভোটেই আশা করি জয় আমিই পাব।

এদিকে, বিএনপির প্রার্থী রিটা রহমান নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন তিনি।

রাধাবল্লভ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাতে খলেয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে। হয়রানির ভয়ে নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এভাবে তো সুষ্ঠু ভোট হয় না। এখন চতুর্দিক থেকে শঙ্কা। সরকারি মেশিনারিজ, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী যদি আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে আমরা কার কাছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করব?

রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে চার জনই নিজেকে ভোট দিতে পারেননি। জাতীয় পার্টির সাদ এরশাদ, বিএনপির রিটা রহমান, গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শফিউল আলম— এই চার জনের কেউই রংপুর-৩ আসনের ভোটার নন। বাকি দুই প্রার্থীর মধ্যে এরশাদের ভাতিজা স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ শাহরিয়ার ও খেলাফত মসলিসের প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মন্ডল রংপুর মডেল কলেজ কেন্দ্রে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।

গত ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। ১৬ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হবে। সে বিধান বিবেচনায় ৫ অক্টোবর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে গত ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে এই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ তারিখ ছিল ৯ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয় ১১ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর।

রংপুর সদরের এই আসনটিতে জাতীয় সংসদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন ৪ লাখ ৪২ হাজার ৭২ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৩১০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২১ হাজার ৭৬২ জন।

নির্বাচন উপলক্ষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রংপুর-৩ নির্বাচনি এলাকার শূন্য আসনে নির্বাচন উপলক্ষে ৫ অক্টোবর সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে নির্বাচনি এলাকায় ওই দিন যদি কোনো পাবলিক পরীক্ষা হওয়ার দিন ঠিক থাকে, তাহলে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *