বালিশে রক্তের দাগ চিনিয়ে দিল খুনি

অপরাধ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রাম নগরীতে একটি ভবন থেকে খুন হওয়া অজ্ঞাতনামা এক নারীর খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে বন্দর থানা পুলিশ। যে ভবন থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেখানকার একটি বাসায় বিছানার বালিশে রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ জাগে পুলিশের। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজন তিন খুনিকে আটকের পাশাপাশি খুনের রহস্যও উদঘাটন করা হয়েছে।

তিনজনের মধ্যে এক আসামি বুধবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর বন্দর থানার কলসী দিঘীর পাড় বাদামতলায় হাজী নুরুল হক সওদাগরের বাড়ি তৃতীয় তলায় ছাদে ওঠার সিঁড়ি থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ সেখানে ফেলা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

এই ঘটনায় গত দুদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরা হলেন- ওই ভবনের বাসিন্দা আলী আকবরের ছেলে মো. ফারুক (৩৬), একই এলাকার রমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. রাশেদ (৩৬) ও আবু তাহেরের ছেলে মো. আলমগীর (৩৫)।

এর মধ্যে ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী।

ওসি সুকান্ত বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর আমরা কোনোভাবে হত্যার বিষয়ে ক্লু পাচ্ছিলাম না। একপর্যায়ে ভবনের যারা বাসিন্দা আছেন তাদের সবার বাসায় তল্লাশি শুরু করি। ফারুক থাকেন তিন তলায়। তার বাসায় শোবার ঘরে বিছানায় বালিশে রক্তের দাগ পাই। সেই সূত্র ধরে ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে ফারুক আমাদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর ও রাশেদকে গ্রেফতার করি।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি সুকান্ত জানান, ফারুক জানিয়েছেন, খুন হওয়া নারী যৌনকর্মী। লাশ উদ্ধারের আগেরদিন রোববার রাত ১১টার দিকে ফারুক তার স্ত্রী ও মেয়েকে শ্বশুরের বাসায় রেখে নিজের বাসায় ফিরছিলেন। বাসার কাছাকাছি স্থানে তিনি ওই নারীকে নিয়ে বন্ধু রাশেদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। রাশেদ ওই নারীকে নিয়ে ফারুকের বাসায় যাবার প্রস্তাব দেন। কিন্তু ফারুক প্রথমে অসম্মতি জানিয়ে ভবনের নিচতলায় তার বাবার বাসায় চলে যান। সেখানে ভাত খেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনতলায় নিজ বাসায় যাবার সময় আবারও দেখেন রাশেদ ওই নারী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তখন ফারুক তাদের ডেকে নিজের বাসায় নিয়ে যান।

ফারুক জানিয়েছেন, বাসায় যাবার পর রাশেদ তার আরেক বন্ধু আলমগীরকে সেখানে ডেকে নেন। আলমগীরের সঙ্গে আরও একজন সেখানে যান, যাকে ফারুক চিনতেন না। রাতে রাশেদ, আলমগীর ও ফারুক মিলে ওই নারীর সঙ্গে রাত কাটান। ওই নারী তাদের কাছে ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু তারা ২ হাজার টাকা দিতে সম্মত হন। এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে তাকে তিনজন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাত তিনটার দিকে লাশ ছাদে ওঠার সিঁড়িতে ফেলে রাখেন। সকালে ফারুকের চাচী কবুতরকে খাবার দেওয়ার জন্য ছাদে উঠতে গিয়ে লাশ দেখেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’ বলেন ওসি।

ওসি জানিয়েছেন, ফারুক হত্যার দায় স্বীকার করলেও রাশেদ ও আলমগীর অস্বীকার করছেন। তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। বুধবার শুনানি শেষে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

খুন হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ওসি সুকান্ত চক্রবর্তী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *