আর্থিক অনিয়ম, যুবলীগ দফতর সম্পাদক বহিষ্কার

রাজনীতি

Sharing is caring!

সংগঠনের পরিচয়ে আর্থিক অনিয়ম ও অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ যুবলীগের দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিসকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম মেম্বারদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাশেষে এ কথা জানান প্রে‌সি‌ডিয়াম মেম্বার আতিয়ার রহমান দিপু।

এদিন সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুরু হয় সভাপতিমণ্ডলীর এই সভা। সভায় সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে যোগ দেননি যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুক। তবে কেন তিনি গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় উপস্থিত নেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ক্যাসিনো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু পর আত্মগোপনে যান আনিস।

আতিয়ার রহমান দিপু সাংবাদিকদের বলেন, কাজী আনিসের ব্যপারে একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রেসিডিয়াম একমত পোষণ করেছে কাজী আনিসকে বহিস্কার করার জন্য। সেই আলোকে কাজী আনিসকে আমরা বহিস্কার করেছি।

ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে দিপু বলেন, ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে কাকে দেওয়া হবে এমন সিদ্ধান্ত হয়নি।

কি কারণে কাজী আনিসকে বহিস্কার করা হয়েছে জানতে চাইলে যুবলীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন বলেন, কাজী আনিস বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দফতর সম্পাদক। তার দুর্নীতির কথা আমরা পত্রপত্রিকায় দেখেছি এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে তাকে যুবলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরদার মোহাম্মদ আলী মিন্টু বলেন, আনিস যুবলীগের কমিটি বিক্রি করে, চাঁদাবাজি, দরপত্র থেকে কমিশন নিয়ে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণে সম্পদ বানিয়েছে। যার ভয়ে এখন সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

আনিস সম্পর্কে মিন্টু আরও বলেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ২০০৫ সালে কাজ শুরু করে আনিস। সাত বছর পর কর্মচারী থেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগের দফতর সম্পাদক পদে বসে। এখন সে একাধিক গাড়ি-বাড়ি, ফ্ল্যাট ও জমির মালিক।

তিনি বলেন, কম্পিউটারে নিয়মিত সারাদেশের যুবলীগ কমিটির তালিকা তৈরি করতে গিয়ে সব তথ্য তার মুখস্থ। এ কারণে চেয়ারম্যানের (যুবলীগ প্রধান) ঘনিষ্ঠ হয়ে যান তিনি।

২০১২ সালে যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের সময় আনিসকে উপ-দফতর সম্পাদক করা হয়। পরে দফতর সম্পাদক পদটি খালি থাকায় ছয় মাসের মধ্যেই এই পদ পায় আনিস।

আনিসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দরপত্র থেকে কমিশন এবং সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে পদ-বাণিজ্য করে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। গত পনের দিন ধরে কাজী আনিস আত্মগোপনে রয়েছেন। দলীয় কার্যালয়ে তিনি যাচ্ছেন না, বাড়িতেও নেই তিনি।

যুবলীগ সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সভায় উপস্থিত ছিলেন না সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে এই বৈঠক চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তেই হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রেসিডিয়ামের সদস্যরা।

প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শহিদ সেরনিয়াবাত, শেখ শামসুল আবেদীন, আলতাব হোসেন বাচ্চু, মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, মোঃ আতাউর রহমান, এডভোকেট বেলাল হোসাইন, আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, অধ্যাপক এবি এম আমজাদ হোসেন, আনোয়ারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নিখিল গুহ, শাহজাহান ভুইয়া মাখন, ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু, শেখ আতিয়ার রহমান দিপু।

বৈঠক শেষ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ আতিয়ার রহমান দিপু সাংবাদিকদের বলেন, সভা ডাকার অনুমতি চেয়ারম্যান দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের নির্দেশই এই সভা হয়েছে। তবে তিনি কেনো আসেন নি সে বিষয়টি জানা নেই। হয়ত অসুস্থতার কারণেও না আসতে পারেন। চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে নয়, চেয়ারম্যানের নির্দেশেই বৈঠকটি হয়েছে। উনি কোথায় আছেন আমরা কেউই জানি না।

যুবলীগ চেয়ারম্যান থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদের বিষয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার। আর যাদের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিষয়েও তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব কে করবেন জানতে চাইলে অধ্যাপক এ বি এম আমজাদ হোসেন বলেন, এ দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। উনি যেভাবে বলবেন সেভাবেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *