আজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আদরের কন্যা টুম্পার ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকী

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

‘প্রিয় বাবা আজ তোমার শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করছি। সকালে জেগে ওঠার জন্য এখন আর কেউ বকাবকি করে না। বাড়ির যে গাছ গুলোতে রোজ পানি ছিটিয়ে সজীব করে রাখতে তুমি। তারাও এখন খুব বিষণ্ন,নির্জীব। ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বলে উঠলে যে ভিখারীটি গাড়ির কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেও তোমার বেশ অভাব বোধ করছে। আমি,আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি। তুমি ফিরে এসো বাবা। একবার আমি তোমাকে ড্যাড বলে ডাকতে চাই’

মরণব্যাধি ক্যান্সারে এক কন্যার এই চিঠি কারাবন্দী এক পিতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা৷ চট্টগ্রামের কিংবদন্তি নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে এই চিঠি লিখেছিলেন তার আদরের মেয়ে টুম্পা। এই চিঠি যখন টুম্পা লিখেছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী তখন কারাগারে বন্ধি।

দেশে তখন সেনা সমর্থিত অবৈধ মঈনুদ্দিন- ফখরুদদীন সরকার। আওয়ামী লীগকে বিভাজন ও নেতৃত্বশূন্য করতে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বন্দী করার ষড়যন্ত্র চলছিল, তা সত্বেও প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকতে নিজের চিকিৎসা ফেলে দেশে ছুটে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন – এসেই কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। অনেক প্রলোভন, ভয়, নির্যাতন তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য থেকে সরাতে পারেনি। কারাগারকে তিনি হাসি মুখে বরন করে নিয়েছিলেন। দূর্ভাগ্য ঠিক এই সময়ে তার আদরের মেয়ে টুম্পা আক্রান্ত হন মরনব্যাধী ক্যানসারে। এসময় মহিউদ্দিন চৌধুরী তার মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে চাইলে – তৎকালীন সেনা সমর্থিত অবৈধ সরকার তাকে দেখার অনুমতি না দিয়ে উল্টো শর্ত দিয়ে তাদের সাথে আপোষ করার প্রস্তাব দেন – যা বীর মহিউদ্দিন ঘৃনার সাথে প্রত্যাখান করেন। যেদিন তিনি মুক্তি লাভ করেন সেদিনই ব্যাংককে মেয়েকে দেখতে রওনা দেন তিনি- এয়ারপোর্টে ফ্লাইটে উঠার আগেই তিনি জানতে পারেন তার কন্যা আর নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *