‘ভোট–রাজনীতি’ চর্চায় শিল্পীরা

বিনোদন

Sharing is caring!

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি)—কে যদি দেশ ধরা হয় তাহলে শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে মনে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চোখ বুজলেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের যে চিত্র চোখের সামনে ভেসে ওঠে; চলচ্চিত্র শিল্পীদের নির্বাচনকে ঘিরে সেরকম একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জাতীয় নির্বাচন এমন একটি জায়গা যেখানে ‘ভোট–রাজনীতি’ বিষয়টি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে। কিন্তু শিল্পীদের বেলায় ‘ভোট রাজনীতি’ বিষয়টি যোজন মাইল দূরে অবস্থান করার কথা থাকলেও শিল্পীদের সাথে সেটি সহাবস্থান করছে। আর সেকারণে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির মতো সাধারণ একটি নির্বাচন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি খবরের উপাদান হচ্ছে।

সভাপতি প্রার্থী মৌসুমীকে অন্যান্য সময় জুনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে খুব একটা দেখা না গেলেও নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। যারা প্রচারণা চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে কেউ শিল্পী সমিতির সদস্য আবার কেউ সদস্য নন। কিন্তু তারা প্রত্যেকে চান মৌসুমীর বিজয়।

মৌসুমীর স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানীকে ঘিরে ধরে বুধবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়েকজন সিনেমার এক্সট্রা শিল্পী বলছিলেন, ‘মৌসুমী আপা জিতেই যাবেন। কেউ রুখতে পারবে না। আপনার কোনো চিন্তার কারণ নেই।’

তাদের মধ্যে থেকে একজন বয়স্ক মহিলা বললেন, ‘আমরা অনেকে আছি শিল্পী সমিতির সদস্য না। তবে আমরা দোয়া করছি, মৌসুমী আপা জিতবেনই।’

তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হতেই পারে নির্বাচনে চোখ বুজে মৌসুমী জিতে যাবেন। তার প্রতিপক্ষ মিশা সওদাগর কোনো পাত্তাই পাবেন না।

আবার ওদিকে মিশা সওদাগর–জায়েদ খান প্যানেলের সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস মগডালে অবস্থান করছে। তাদের মতে, শিল্পী সমিতির উন্নয়ন আরও বেগবান করতে আবারও মিশা–জায়েদ প্যানেলেকে চাই। তারাই পারবে শিল্পীদের প্রকৃত উন্নয়ন করতে। তাই নিঃসন্দেহে এই প্যানেল জিতে যাবে।

সুতরাং প্রার্থীর সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস যেখানে তুঙ্গে সেখানে প্রার্থীরা আশায় বুক বাঁধবেন সেটাই স্বাভাবিক। তবে শেষ হাসি কে হাসবেন সেটা জানা যাবে নির্বাচন শেষে।

মিশা–জায়েদ খান প্যানেলের অভিযোগ মৌসুমী তার নির্বাচনী প্রচারণায় বহিরাগতদের কাজে লাগাচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হতে মৌসুমী মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগের সহায়তা নিচ্ছেন। যা বৈধ নয়। এছাড়া মৌসুমী নানাভাবে মিথ্যাচার করছেন বলেও অভিযোগ তাদের।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) শিল্পী সমিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন বরাবর আবেদনও করেছেন তারা।

সেই আবেদনপত্রটি মিশা সংবাদ সম্মেলনে পড়ে শোনান। এসময় তিনি নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বহিরাগত কোনো ব্যক্তিকে এফডিসিতে ঢুকতে না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন কোনো বহিরাগত নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারে।’

মিশা অভিযোগ করেন, তার প্যানেল সমর্থক সারোয়ারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে প্রতিপক্ষের সমর্থকরা। এফডিসির বাইরে বের হলে তাকে দেখে নেওয়ার কথা বলেন তারা।

গত মঙ্গলবার মৌসুমীর সঙ্গে মিশা–জায়েদ প্যানেলের সমর্থক অভিনেতা ড্যানিরাজের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলে শিল্পী সমিতি নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ অস্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, বহিরাগতদের নিষিদ্ধ করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব এফডিসি মহাপরিচালকের। আমি তার সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবস্থা নেবেন।’

ওদিকে বহিরাগতদের নিয়ে শিল্পী সমিতিতে প্রচারণার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সভাপতি প্রার্থী মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘আমাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে। বরং তারা টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন। আমার সমর্থকদের এফডিসিতে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। ’

চার দেয়ালে ঘেরা সিনেমা পাড়ায় একবার চক্কর দিলে শোনা যাবে, এই নির্বাচনে নাকি শাকিব খান মৌসুমীকে দাবার চাল বানিয়েছেন। তিনি মৌসুমীকে নানারকম পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া তার প্রতিনিধিদের শিল্পী সমিতির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছেন।

শাকিব খান সমর্থিত একটি সূত্র জানায় মৌসুমীকেই সমর্থন করছেন তারা এবং মৌসুমীই জয়লাভ করবেন।

ইতিমধ্যে নির্বাচন স্থগিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শিল্পী সমিতির সাবেক দুই সদস্য মো. সোহেল খান ও মো. হোসেন লিটন। তাদের প্রধান অভিযোগ অবৈধভাবে তাদের সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

তবে অবাক করা বিষয় হলো, গত ১৫ অক্টোবর ইস্যু হওয়া উকিল নোটিশ গতকালও হাতে পাননি বলে জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন। গণমাধ্যমের হাতে আসা উকিল নোটিশে লেখা আছে, তিনদিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে উচ্চ আদালতে যাবেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *