এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৩ অক্টোবর উঠবে পদ্মার ১৫তম স্প্যান

জাতীয়

Sharing is caring!

পলি আর বালির বাধায় আটকে পড়েছে পদ্মাসেতুর স্প্যানবাহী ক্রেন। এই ক্রেনটির আগে আরেকটি লিফটিং ক্রেন খুঁটির কাছে নিয়ে যেতে হচ্ছে। সেটিও নিতে দেরি হচ্ছে একই কারণে। ফলে প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে পদ্মাসেতুর ১৫তম স্প্যান বসানোর কাজ। পরিবর্তিত সময় অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর সেতুর ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটিতে বসবে ১৫তম স্প্যান।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) পদ্মাসেতুর প্রকৌশলীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সেতুর পাশ দিয়ে পদ্মানদীতে কয়েকটি চর জেগেছে। আর এসব চর ঘেঁষে পলি-বালি এসে ঘিরে ফেলেছে সেতুর পিলার। যে কারণে পিলারের কাছে স্প্যানবাহী ক্রেন যেতে যে নাব্যতা প্রয়োজন হয় তা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে টানা চারদিনের প্রচেষ্টায় পলি ও বালি কেটে লিফটিং ক্রেন ২৩ ও ২৪ নম্বর খুঁটির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এখন ২৩ নম্বর পিলারে গাইডিং ফ্রেম বসানো হচ্ছে। এটি বসাতে ৩ দিন সময় লাগবে। এরপর স্প্যান বসানো যাবে। আর স্প্যান বসানোর সেতি তারিখটি হতে পারে ২৩ অক্টোবর। পদ্মায় ১৫তম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে সেতুর প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৃশ্যমান হবে।

এর আগে প্রথমে ১৬ অক্টোবর স্প্যান বসানোর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল। এজন্য স্প্যান খুঁটির অদূরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পলি ও বালির কারণে ক্রেন যেতে বাধার মুখে পড়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুতে এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেতুর সবগুলো পিলারে পাইলিংয়ের কাজও শেষ হয়েছে আগেই। এখন জাজিরা প্রান্তে স্প্যানের উপরিভাগে সড়ক নির্মাণ শুরু হয়েছে। এছাড়া রেলস্প্যান বসানোও অনেকদূর এগিয়ে গেছে।

এছাড়া এখন ৬টি স্প্যান বসানোর জন্য শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে এবং ২টি চর এলাকায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। চীন থেকে এ পর্যন্ত ৩০টি স্প্যান এসে গেছে। এর মধ্যে ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ৬টি স্প্যান লাগাতার বসিয়ে দেওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে স্প্যান খুঁটিতে বসাতে দেরি হচ্ছে। তবে পরবর্তী ৫টি স্প্যান বসাতে এ রকম দেরি হবে না। কারণ ড্রেজিং যেভাবে করা হয়েছে তাতে বাকি স্প্যানগুলো এই চ্যানেল ধরেই কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে খুঁটির কাছে সহজেই নিয়ে আসা যাবে।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুর ৪২টি পিলারে মোট ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। একশ বছরের স্থায়ীত্ব নিয়ে নির্মাণাধীণ এই সেতু রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। একইসঙ্গে বড় জাহাজের ধাক্কা এবং পুরো সেতুজুড়ে অতিরিক্ত লোড বহনে সক্ষম। সেতুর একপ্রান্তে মুন্সিগঞ্জ ও অন্যপ্রান্তে শরিতপুর জেলা। ৬ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলাকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *