ক্রিকেটারদের ঐতিহাসিক ১১ দফা নিয়ে যা বলেছেন সাকিব

খেলাধুলা

Sharing is caring!

সোমবার দুপুর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে গুঞ্জন, বিসিবির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করতে আসছেন ক্রিকেটাররা। চমকে যাই, বিসিবির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন! কিন্তু কেন? খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেল, জাতীয় ক্রিকেট লিগের বর্তমান বেতন-ভাতায় ক্রিকেটারদের কেউই সন্তুষ্ট নন। কেননা জাতীয় ক্রিকেট লিগে প্রথম স্তরের ম্যাচ ফি ৩৫ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয় স্তরের ক্রিকেটাররা ২৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।

অসন্তোষ আছে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পাওনাদি নিয়েও। যেহেতু ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’র আয়োজন বিসিবি নিজ খরচে করছে সেহেতু বিগত আসরগুলোর তুলনায় এবার প্লেয়ারদের পারিশ্রমিক কম হবে। বলে রাখা ভালো, বিপিএল সপ্তম আসরকে সামনে রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দাবি দাওয়ার সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় নিজ খরচে বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। এছাড়াও ঘরোয়া ক্রিকেটে বিদ্যমান অন্য সুযোগ সুবিধা তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই এই সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল দুপুর ২টায়। কিন্তু হলো না। একজন ক্রিকেটারের দেখাও মিললো না। দেশের অগনিত সংবাদ মাধ্যমের উৎসুক চোখ শের-ই-বাংলার মূল ফটকে তাক করা। কখন আসবেন ক্রিকেটাররা? কখনই বা শুরু হবে? অবেশেষ দুপুরর ৩টা ১০ মিনিট নাগাদ ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মুর্ত্তজা ছাড়া একযোগে জাতীয় দল ও জাতীয় দলের বাইরে থাকা প্রায় ১২০ জন ক্রিকেটার শের-ই-বাংলায় প্রবেশ করেই চলে গেলেন মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমির মাঠে। সংবাদ মাধ্যমগুলোও তাদের পেছনে ছুটল। এরপর সমবেত হয়ে এদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের উন্নয়নে ১১ দফা দাবি তুললেন।

দেশের ক্রিকেটে এই প্রথম নিজেদের দাবি দাওয়ার ব্যাপারে উচ্চকন্ঠী হয়ে একে একে ১১টি দাবি পেশ করে গেলেন নাইম হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, এনামুল হক বিজয়, এনামুল হক জুনিয়র, তামিম ইকবাল ও জুনাইদ সিদ্দিকি। যেন বহুদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ একদিনেই উগড়ে দিলেন। ঐতিহাসিক এক ঘটনার স্বাক্ষী হলো হোম অব ক্রিকেট।

টাইগার টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলপতি সাকিব আল হাসানের কণ্ঠ ততটা ঝাঁঝাঁলো মনে না হলেও এক দফা দাবিটি তুলে ধরার সময় ছিলেন বেশ প্রত্যয়ী। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি অনিয়মিত হলেও এই অঙ্গনের ক্রিকেটারদের প্রতি তার সহমর্মিতার নূন্যতম কমতি ছিল না। শান্ত গলায় অবলিলায় তুলে ধরলেন অসঙ্গতি, চাইলেন আশু সমাধান এবং শেষমেষ বেশ ঠান্ডা গলায় হুমকি দিলেন এই ১১ দফা দাবি আদায় না হলে কোনো ধরনের ক্রিকেটে তারা অংশ নেবেন না। যা হুমকির মুখে ফেলে দিল আসন্ন ভারত সফর ও চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগকে।

তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলসহ বয়সভিত্তিক দলগুলোকে এই ধর্মঘটের বাইরে রাখলেন। এর পেছনে কারণ হলো ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অনুজরা অংশ নেবেন।

সাকিব বললেন, ‘আমরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই বল দিয়ে খেলা হয় না। ফলে আমাদের নতুন করে বলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। এই জিনিসটা যেন আমাদের না করতে হয়। প্রতিদিন অ্যালাওন্স বাবদ আমাদের ১৫শ টাকা দেওয়া হয়। আমার মনে হয় না এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত। যে ফিটনেস লেভেল বিসিবি প্লেয়ারদের থেকে দাবি করে মনে হয় না সেটা ১৫শ টাকায় সম্ভব। স্বাভাবিক ভাবেই তাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে এবং ভালো হোটেলে থাকতে হবে। সেটা বিবেচনা করে যে টাকা দিলে ভালো হয় বিসিবি সেটা যেন করে।’

ভ্রমণ: এটা বড় একটি ইস্যু। ভ্রমণ বাবদ যে টাকা দেওয়া হয় সেটা পর্যাপ্ত না। আমাদের ২৫শ টাকা দেওয়া হচ্ছে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে ভ্রমণ বাবদ। আপনারা বলতে পারেন ২৫শ টাকায় বাস ছাড়া অন্য কোনো ভাবে সে পৌঁছাতে পারে? অতএব বিসিবি থেকে যেন বিমান ভাড়া দেওয়া হয় সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। হোটেলে জিম এবং সুইমিং পুল অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ চার দিনের ম্যাচ শেষে প্রতিটি প্লেয়ারের অনেক কষ্ট হয়। তো এখানে অবশ্যই রিকভারির জায়গা থাকতে হবে। টু স্টার বা থ্রি স্টার হোটেলে প্লেয়ারদের থাকা সম্ভব নয়।

বাস: আপনারা দেখেন আমরা কি বাসে চলাফেরা করি। এটা প্লেয়ারদের জন্য একেবারেই আরামদায়ক নয়। এতএব একটা এসি বাস অবশ্যই যেন থাকে।

অনূর্ধ্ব ১৯ দল বাদে সবাই এটার মধ্যে রয়েছে। বয়সভিত্তিক দলগুলোতে অনূর্ধ্ব ১৭, ১৫ এগুলো বাদে প্রথম শ্রেণি, জাতীয় দলের প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসহ সব ধরনের ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বোর্ড সমাধানের দাবিগুলো মেনে নিলেই স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবো উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘আমরা সবাই চাই ক্রিকেটের উন্নতি হোক। একটা খেলোয়াড় তিন বছর চার বছর খেলবে। অনেকেই ১০ বছর খেলবে। যারা ভবিষ্যতে আসবে, তাদের জন্য আমরা চাই একটি সুন্দর পরিবেশ রেখে যেতে। যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট সামনের দিকে এগিয়ে যায়।’ যোগ করেন সাকিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *