সাপের কামড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৬ জনের মৃত্যু ঘটে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয়

Sharing is caring!

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১৬ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে সাপের কামড়ে। আর প্রতি বছর মারা যায় ৬ থেকে ৭ হাজার। তাই সাপের কামড় থেকে আরোগ্য লাভে সব উপজেলা হাসপাতালে অ্যান্টি-ভেনম দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা বলরুমে সর্প দংশনবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সেমিনারটি আয়োজন করে নন—কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যাচ্ছে। গড় হিসেবে প্রতিদিন অন্তত ১৬ জন মানুষের মৃত্যু ঘটছে সাপের কামড়ে। দেশের সব জেলা শহরের হাসপাতালে বর্তমানে অ্যান্টি-ভেনম দেয়া হচ্ছে। তবে উপজেলা পর্যায়ের সব জায়গায় এখনো অ্যান্টি-ভেনমের অভাব রয়েছে। আর এ কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব উপজেলা হাসপাতালে দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য অ্যান্টি-ভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অ্যান্টি-ভেনম আনা হচ্ছে ভারত থেকে। কিন্তু ভারতের সাপের ধরণ থেকে বাংলাদেশের সাপের ধরণ কিছুটা ভিন্ন। এ জন্য এখন থেকে সাপের ধরণের কথা চিন্তা করে আমাদের দেশেই অ্যান্টি-ভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডিরেক্টর ডা. নূর মোহাম্মদ। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরামর্শক ডা. অপর্ণা ঘোষ। সেমিনারে কর্মকৌশল উপস্থাপনা, ভেনম রিসার্স সেন্টার’-এর কর্মকান্ড উপস্থাপন করেন ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ। সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম.এ. ফয়েজসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’ প্রথমবারের মতো সর্পদংশন ও প্রতিরোধের জন্য চারটি কর্মকৌশলের মাধ্যমে তিন ধাপে ২০৩০ সাল নাগাদ শতকরা ৫০ ভাগ মৃত্যু ও অক্ষমতার কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, কমিউনিটিকে ক্ষমতায়ন ও নিয়োগ করা, কার্যকর নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর সফল করা, অংশীদারীত্ব, সমণ্বয় ও সংস্থান বৃদ্ধি করা। অনুষ্ঠানে সর্পদংশনের চিকিৎসা গাইড লাইন ২০১৯ মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *