সন্দ্বীপে বহিষ্কৃত নেতার নেতৃত্বে হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সম্মেলন

উত্তর চট্টগ্রাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

দেশ ব্যাপী যখন আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান চলছে তখন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এক নেতার নেতৃত্বে হচ্ছে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সম্মেলন। এমনকি কোন দায়িত্বে না থাকলেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত থাকছেন ঐ নেতা। সেই নেতাকে আবার চেয়ার ছেড়ে দিতে হচ্ছে খোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককেও। সবকিছুর উর্ধে থাকা বহিষ্কৃত ঐ আওয়ামী লীগ নেতার নাম রবিউল আলম সমীর।

জানা গেছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে ২০১৩ সালে রবিউল আলম সমীরকে সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করার সুপারিশ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ঐ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করে রবিউল আলম সমীরকে পদ থেকে বহিষ্কার করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় তরুণ শিল্পপতি আফতাব খান অমিকে। এর পর দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সম্মেলনকে ঘিরে আবারো সক্রিয় হয়েছেন সমীর। কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব ইউনিয়নে ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে গত এক মাস ধরে। এর মধ্যে মগধরা ইউনিয়নের সবকটি ওয়ার্ডের সম্মেলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন রবিউল আলম সমীর। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও সব সম্মেলনে প্রধান অতিথির পাশের চেয়ারে বসেছেন সমীর। শুধু তাই নয় প্রতিটি ওয়ার্ডেই ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে সমীরের পছন্দের লোকজন দিয়ে করা হচ্ছে ওয়ার্ড কমিটি। এমনকি কোন ওয়ার্ড সম্মেলনে দেখা যায় নি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টারকে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়

৭ নাম্বার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সমীরের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে। সেখানে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড মেম্বার আবু ছাফাকে বাইরে রেখে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বিএনপি জামায়াতের সময়েও ঐ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

৭ নাম্বার ওয়ার্ড সম্মেলনে সমীর, ডাকা হয়নি ওয়ার্ড সভাপতি ও মেম্বারকে

৮ নাম্বার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের নেতা সাহাবউদ্দিনকে সম্পৃক্ত করা হয়নি ওয়ার্ড সম্মেলনে। অথচ ২০০১ সালের পর করা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন তিনি।

৮ নাম্বার ওয়ার্ড সম্মেলনে বহিষ্কৃত সমীর, ডাকা হয়নী বিএনপি সরকারের সময়কার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য সাহাবউদ্দিনকে

এভাবে দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে বহিষ্কৃত এক নেতার নেতৃত্বে মগধরার সব কটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীদের দিয়ে বেশিরভাগ ওয়ার্ড কমিটি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের কর্মীদের।

সর্বশেষ গত শনিবার (২৬ অক্টোবর) মগধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অংশ নেন সমীর। দলীয় কোন দায়িত্বে না থাকা সমীর শুধু মাত্র বর্ধিত সভায় অংশ নিয়েছেন এটাই শেষ নয়। সমীরকে জায়গা দিতে বর্ধিত সভায় প্রথম সারিতে বসার জায়গা পাননি খোদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। যেখানে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে খুব কঠোর অবস্থানে সারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সেখানে সন্দ্বীপে এমন ভিন্ন চিত্র অবাক করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মগধরা আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত এক নেতা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোন দায়িত্বে না থেকে তিনি বর্ধিত সভায় বসছেন। এসব খুবই হতাশাজনক। তাদের সন্ত্রাস ও ক্ষমতার কাছে দলীয় শৃঙ্খলা কতটুকু অসহায় সেটাতো এর মধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। কিন্তু যখন সারা দেশে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান চলছে তখনও তাদের এই আস্ফালন কষ্ট দেয়।

এই বিষয়ে মগধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুর রহমান খান বলেন, সমীর একদম শুরু থেকেই দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত। সে ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করেছিল, ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনেও সে বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমানের পক্ষে নির্বাচন করেছিল, ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনেও সে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী মাস্টার শাহজাহান বিএর বিরুদ্ধে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মিজানুর রহমানের নির্বাচন করেছে। সব সময় দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করেছে সে, এসব অভিযোগে বহিষ্কার হওয়ার পরেও তার নেতৃত্বে ওয়ার্ড সম্মেলন হচ্ছে এটা খুবই লজ্জাজনক।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মগধরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রথমে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে তিনি বলেন সে উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হলেও তার সদস্য পদ আছে। এজন্য তাকে সব কিছুতে রাখা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন নির্দেশনা এলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।

সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী খসরু বলেন, তাকে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছিল। সে এখন কোন পদে নেই। কোন পদে না থেকে বর্ধিত সভায় থাকার কিংবা সম্মেলনে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ নেই। তবে এসব গঠনতান্ত্রিক ব্যাপার৷ কিন্তু গঠনতন্ত্র নীতি আদর্শকে পাশ কাটিয়ে পেশি শক্তি দিয়ে একটি শক্তি দলে অপরাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। এই অপশক্তি কারা সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

তিনি আরো বলেন, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই আমরা রাজনীতির একটি নাজুক সময় পার করছি। দলের নিয়ম শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সন্ত্রাস ও পেশি শক্তি দিয়ে একটি পক্ষ রাজনীতিকে কুক্ষিগত করতে চাইছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ জরুরি হলেও কিভাবে উত্তরণ করবো তার উত্তরও আমাদের জানা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *