বৃষ্টি উপেক্ষা করে জুলুসে লাখো নবী প্রেমিকের ঢল!

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশগ্রহণ করেছে লাখো মানুষ। আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ৪৮তম এ জুলুসে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওলাদে রাসুল, আল্লামা সৈয়দ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম জি আ)।

আজ রোববার (১০ নভেম্বর) নগরীর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খাানকাহ থেকে সকাল ৯টায় বের হয় জুুুলুস।সকাল হতেই দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে জামেয়া মাদ্রাসা অভিমুখে। জুলুসকে ঘিরে ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণে সাজানো হয়েছে আলমগীর খানকা, জামেয়া মাদ্রাসা, মুরাদপুর ও আশপাশের এলাকা।

জুলুসে অংশ নেওয়া হুজুরে কেবলার সঙ্গে আছেন শাহজাদা আল্লামা সৈয়্যদ মু. কাসেম শাহ (মজিআ) ও আল্লামা সৈয়্যদ মু. হামেদ শাহ (মজিআ), আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের উপদেষ্টা ও পিএইচপি ফ্যামিলির পরিচালক সুফি মিজানুর রহমান, আনজুমানের ভিপি মো. মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মো. আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি মো. সামশুদ্দিন এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি সিরাজুল হক।আরও উপস্থিত থাকবেন আল্লামা মুফতি ওবায়দুল হক নঈমী, জামেয়ার অধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ অছিয়র রহমান, মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদিউল আ ম রিজভী, আনজুমানের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মহসিন, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার প্রমুখ।

আনজুমান সিকিউরিটি ফোর্সের (এএসএফ) প্রধান সাদেক হোসেন পাপ্পু বলেন, ১২ বছর আগে এএসএফ প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের ৩০০ স্বেচ্ছাসেবী এএসএফ সদস্য ১৫ পয়েন্টে আছেন। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক আছেন ৪ হাজার। এর বাইরে আনসার, পুলিশ, র‌্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৭৪ সাল থেকে চট্টগ্রামে জুলুস হচ্ছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জুলুস। সারা দেশে, বিশ্বের অনেক দেশে জুলুস ছড়িয়ে পড়েছে। মিশরে রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলুস বের করা হয়। আমরা আশা করবো, নবীজীর শানে আয়োজিত চট্টগ্রামের জুলুস গিনেস বুকে স্থান পাবে, ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতি পাবে।

নগরীর মুরাদপুর-ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার আলমগীর খানকাহ থেকে সকাল নয়টায় জুলুস শুরু হয়ে জনতার ভিড় ঠেলে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে বিশেষভাবে তৈরি গাড়িটি।আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহকে(ম জি আ) একনজর দেখতে সড়কের দুইপাশে, ফ্লাইওভারে, বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র, বহুতল ভবনের ছাদে হাজার হাজার মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকে ছোট ছোট ট্রাক, রিকশাভ্যানে শরবত, রুটি, জিলাপি, শুকনো খেজুর, ফল, চকলেট দিয়ে জুলুসের অতিথিদের আপ্যায়ন করান।

আয়োজকদের দাবি এবারও জুলুসে ৬০ লাখ লোকের সমাগম হবে। মুরাদপুর থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত কয়েকশ’ ভাসমান বিক্রেতা টুপি, আতর, তসবিহ, পাঞ্জাবি-পাজামা, শীতের পোশাক, খাবারের পসরা সাজান।

জাহিদ/সিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *