রাঙ্গুনিয়ায় শিশুকে গলাটিপে হত্যা, ১৫ দিন পর লাশ উদ্ধার

উত্তর চট্টগ্রাম প্রচ্ছদ বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জান্নাতুল আনীসা নামের ২ বছর ৩ মাস বয়সী এক শিশুকন্যাকে গলাটিপে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে তার মামী।
হত্যার প্রায় ১৫ দিন পর নিহত শিশুকন্যাটির মামা বাড়ি থেকেই তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটার আসকার আলী রোড এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে মামীর হাতেই শিশুকন্যা জান্নাতুল আনীসার হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে সন্দেহজনক ভাবে নিহত শিশুকন্যা জান্নাতুল আনীসার মামী শান্তা আক্তারকে (২২) আটক করে পুলিশ।
নিহত শিশুকন্যার ঘাতক মামী শান্তা আক্তার স্থানীয় নুরুল আলমের স্ত্রী।
শান্তা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে সে জান্নাতুল আনীসার হত্যার এই ঘটনা স্বীকার করে।
১ জানুয়ারি (বুধবার) বিকেলে তাকে আদালতে নেওয়া হয়, সেখানে ১৬৪ ধারায় হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দেন ঘাতক মামী।

আদালতের জবানবন্দীতে সে বলে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই শিশুটিকে সে গলাটিপে হত্যা করেছে। হত্যা করে প্রথম দুইদিন পাতার বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখে। গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে লাশটিকে পরে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে সে ফেলে দিয়েছে।

নিহত শিশুকন্যা জান্নাতুল আনীসা গত ১২ই ডিসেম্বর মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ১৬ই ডিসেম্বর পারিবারিক বিরোধের জেরে মামীর হাতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়।
প্রায় দীর্ঘ ১৫ দিন খোঁজাখুঁজির পর ৩০ ডিসেম্বর মামা বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

নিহত শিশুকন্যা জান্নাতুল আনীসার পিতা মোঃ জমির উদ্দিন জানান, গত ১২ই ডিসেম্বর নিহত শিশু আনীসা তার মা রুজি আক্তারের সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ১৬ই ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শিশু আনীসাকে তার মামীর কাছে রেখে মা রুজি আক্তার তার বড় পুত্রকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী এক হুজুরের কাছে যায়। আধা ঘন্টা পর বাড়িতে আসলে মামী আনীসাকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানায়। পরে স্থানীয় পুকুরে জাল ফেলা সহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে ১৭ই ডিসেম্বর রাঙ্গুনিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়রী করা হয়।

১৫ দিন নিখোঁজ থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর সকালে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা আলগা অবস্থায় দেখে সন্দেহ হয় বাড়ির লোকজনের। পরে দুপুরের দিকে পুলিশের সহায়তায় ট্যাংকের ভেতর থেকেই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় লাশটি তার নিজ বাড়ি সিকদার পাড়া এলাকায় দাফন করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মাহবুব জানান, সংবাদ পেয়ে আসকার আলী রোড এলাকায় জান্নাতুলের মামার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির লাশটি উদ্ধার করা হয়।

হত্যার রহস্য উদঘাটনে সন্দেহজনকভাবে মামীকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।

ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা সে ব্যাপারেও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply