আল্লাহর রহমত চাইতে কার্পন্যতা কেন, প্রশ্ন নওফেলের

প্রচ্ছদ মতামত মুক্তচিন্তা

Sharing is caring!

প্রার্থনায় ধর্মের ভিত্তিতে নিদৃষ্ট জাতি গোষ্ঠির মঙ্গল কামনা করার সমালোচনা করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসানা চৌধুরী নওফেল। এটিকে সংকীর্ণতা হিসেবে উল্লেখ করে পৃথিবীর সকল মানুষ ও জীবের জন্য প্রার্থনা করতে সবার প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২২ মে) ভোর ৩ টা ১০ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় দেয়া এক স্ট্যাটাসে এসব প্রসঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল।

নিদৃষ্ট ধর্মের মানুষের জন্য দোয়া করার মানসিকতাকে সংকীর্ণতা হিসেবে তুলে ধরে উপমন্ত্রী লিখেন, ‘যখন দোয়া, মোনাজাত ধরি, একটি কথা প্রায় শুনি, “হে আল্লাহ সারা পৃথিবীর মুসলমানদের তুমি ভালো রাখো”। কি ভয়াবহ সংকীর্ণতা! ‘

এই ধরনের প্রার্থনার কোন যুক্তি আছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলে তিনি লিখেছেন, ‘মহান আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া চাইতে গিয়েও কেন আমরা এত অনুদার?? ন্যুনতম যুক্তি দিয়েও যদি আমরা চিন্তা করি পৃথিবীতে শুধু মুসলমানেরা কিভাবে ভালো থাকবে, যখন তারা সকল ধর্মের সাথেই বাস করেন? করোনার কভিড১৯ কি পারবে শুধু মুসলমান বাচিয়ে আরেক ধর্মাবলম্বীদের সংক্রমণ করতে?? যুদ্ধবিগ্রহ, সহিংসতা, প্রানহানিকর যা কিছু আছে তা থেকে কি শুধুই ধর্মের ভিত্তিতে আমরা কখনও রক্ষা পাই?’

জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ এই সংকীর্ণতার বাইরে নন উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেন, ‘এই ধরনের দোয়া মোনাজাত ইদানীং আমাদের একটা অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে। এমনকি যারা আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আছি, তারাও এই সংকীর্ণতায় প্রায় দুষ্ট। ‘

সবাইকে এমন চিন্তা ভাবনা থেকে বের হয়ে উদার ভাবে মানবজাতি ও পৃথিবীর সকল প্রানীর জন্য দোয়া করার আহবান জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘আশ্রাফুল মাখলুকাত মানুষ, স্রষ্টার কাছে দোয়া তার সৃষ্টির জন্য চাইবো, সকলের জন্য চাইবো। এই ধরনের মোনাজাতের পিছনে কোনো ধর্মীয় যুক্তি আমি আজও শুনিনাই, আছে বলেও মনে হয় না। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবেন, কিন্তু আমি নিজে দোয়া চাইতে, আল্লাহপাকের রহমত নাজিল হতে বলতে, কেন এত কার্পণ্য দেখাবো? সারা পৃথিবীর উপর নাযিল হওয়া এই ভাইরাসও কি আমাদের উদার হতে শেখায় না? আমাদের বাঙালি মুসলমানের মধ্যেই এই দৈন্যতা একটু বেশি বলে মনে হয়। মহান আল্লাহপাক আমাদের হেদায়েত দিক। পৃথিবীর সকল মানুষ, সকল জীব, মহান আল্লাহর রহমত লাভ করুক। আমিন।’

Leave a Reply