করোনা বিরোধী যুদ্ধে রাজাকারের ভূমিকায় চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল- দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের

চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক দুর্ভোগ প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

বৈশ্বিক মহামারী করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল মালিকরা নব্য রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বলে মন্তব্য করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের বর্তমান ভূমিকার বিরুদ্ধে নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের দেয়া আন্দোলনের ঘোষণার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরষিদের মহাসচিব মোহাম্মদ ইউনুস সিনিউজ অনলাইনকে বলেন, সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সবাই যার যার অবস্থান থেকে এই যুদ্ধে এগিয়ে আসছে। কিন্তু আমরা গভীর দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের ভূমিকা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।

চট্টগ্রামে করোনা ঝুঁকি ও তা মোকাবেলায় দক্ষ নেতৃত্বের সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস বলেন, দেশের একমাত্র সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রামে একটা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরও বয়েছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই নগরী স্বাভাবিকভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অথচ আমাদের এখানে করোনা চিকিৎসার জন্য আছে মাত্র ১০ টা আইসিইউ আর ৩০০ টা আইসোলেশন বেড। এই পরিস্থিতিতে সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও এগিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছে। অথচ সেই নির্দেশনাকে এড়িয়ে গিয়ে সাধারণ রোগীদেরও বিনা চিকিৎসায় ফিরিয়ে দিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। গত কয়েকদিনে অনেক লোক হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে বলে সংবাদ মাধ্যম গুলোতে খবর প্রকাশ হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের এই ভূমিকা করোনা বিরোধী যুদ্ধে রাজাকারের ভূমিকা বলেই আমরা মনে করি। তারা করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা করা যুদ্ধে চরম অসহযোগিতা করছে। নাগরিকদের চিকিৎসা না দিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেয়ার অশুভ চক্রান্ত করছে। একজন মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে এই ধরণের হঠকারী অবস্থান নেয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিকদের এভাবে চিকিৎসাহীন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার এই অশুভ খেলা বেশি দিন বরদাশত করা হবে না। আমরা দেখেছি চট্টগ্রামের সাবেক ছাত্র নেতারা বেসরকারি হাসপাতালের এই অরাজকতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে। তাদের এই আন্দোলনের সাথে আমরা চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারাও একাত্মতা প্রকাশ করছি। আমরা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ৪৮ ঘন্টা বেধে দিচ্ছি। এর মধ্যে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন ঘোষণা না পেলে আর বেসরকারি হাসপাতালগুলো তাদের অবস্থান থেকে নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু না করলে আমরা ওসব হাসপাতালগুলো লকডাউন করে দিব। হাসপাতাল গুলোতে লাল পতাকা লাগিয়ে দিব।’

তিনি বলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করা সহযোদ্ধাদের অনেকের সাথেই আমার কথা হয়েছে। আমরা সকলেই এই বিষয়ে একমত হয়েছি যে বেসরকারি হাসপাতাল গুলো এ অমানবিকতার নজির স্থাপন করছে সেই অবস্থান থেকে তারা সড়ে না আসলে চট্টগ্রামের ছাত্র জনতাকে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনীভাবে ও রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো আমরা।

মুক্তিযোদ্ধা ইউনুসের সাথে একমত পোষণ করা অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন আবুল মনসুর, মহিউদ্দিন হাসেম, জিতেন্দ্র প্রসাদ নাথ মন্টু, মোহাম্মদ ইউসুফ, নৌ কমান্ডো মোহাম্মদ হোসেন, মহিউদ্দিন, আবুল কাশেম, কমান্ডার মাহবুব, অমল মিত্র, কমান্ডার জামাল, হারিস আহমদ, আবু সৈয়দ, আনোয়ারুল আজিম, মো. মহসীন কমান্ডার,আরিফ মাসুদ, দেবাশীষ গুহ, মো. ইদ্রীস, কাজী আবু তৈয়ব, কমান্ডার কাজী সিরাজ, রফিক প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *