ছাত্রলীগের মনিটরিং : ভিআইপি রেফারেন্স ছাড়া সেবা মিলছে নাহ পার্কভিউ-ম্যাক্সে

চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক দুর্ভোগ প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা মনিটরিং কর্মসূচির তৃতীয় দিনে আজ পার্কভিউ ও ম্যাক্স হাসপাতাল ঘুরে এসেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীরের নেতৃত্বে শনিবার(৬ জুন) সকাল ১০ টায় ম্যাক্স হাসপাতাল ও ১১ টায় পার্কভিউ হাসপাতালে যান ছাত্রলীগ নেতারা।

হাসপাতাল দুটিতে চিকিৎসা সেবা চললেও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ছাত্র নেতারা। এর মধ্যে শুধুমাত্র রেফারেন্সের ভিআইপি রোগীদের নিয়ে সাধারণ রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া, হাসপাতালে প্রবেশের পথে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি করার মত অভিযোগও রয়েছে।

জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ম্যাক্স হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে আমরা একজন নারীকে পেয়েছি। তিনি তার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে জরুরী বিভাগের সামনে বসে ছিলেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন আধঘন্টা ধরেই স্বামীকে নিয়ে সেখানে বসে আছেন তিনি। এর মধ্যে কোন ডাক্তার তার স্বামীকে দেখতে আসেননি। হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট থেকে জানানো হয়েছে আগে টাকা পয়সার ব্যাপারে কথা বলে নিতে। এর পর তার স্বামীকে দেখতে ডাক্তার আসবে।’

অভিযোগ পেয়েই হাসপাতালের জিএম এর সাথে কথা বলে তাকে ওই মহিলার মুখোমুখি করেন নগর ছাত্রলীগের নেতারা। তবে জিএম আসতেই এই বিষয়ে একদমই চুপ হয়ে যান ওই নারী। এই বিষয়ে জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ‘আমরা সাথে সাথেই জিএম রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্তের রুমে যাই। উনি আমাদের সাথে নিচে নেমে আসেন। কিন্তু তিনি আসতেই ওই নারী ভয়ে চুপ হয়ে যান। আমরা অনেকভাবে তাকে জিজ্ঞাস করেও আর এই বিষয়ে কোন কথা বলাতে পারিনি। পরে জিএম আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টি তিনি দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘দুই হাসপাতালেই চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। রোগীদের আনাগোনা আছে। তবে এর মধ্যেও বেশ কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে মোটাদাগে ৪ টা বিষয় আমরা নোট করেছি। সেগুলো হলো- কোন রোগী গেলে প্রথমেই সিট নাই বলে তাদের বিদায় করে দেয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে ভিআইপি রেফারেন্সে কিছু ভর্তি নেয়। ভর্তির পরে টাকার বিশাল একটা চাপ দেয়। এই বিষয়ে দুই হাসপাতালেই আমরা বারবার জিজ্ঞেস করছি। উনাদের বিলের নিয়ম কি? উনারে কিছুই খুলে বলেন নাই। অন্য অভিযোগটি পার্কভিউর বিরুদ্ধে। সেখানে ঢুকার ক্ষেত্রে রোগী ও তার স্বজনদের সিকিউরিটি গার্ড দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয় এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এই বিষয়ে পার্কভিউর জিএম তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফের কাছে জানতে চাইলে তিনি সিট খালি না থাকার অজুহাত দেখিয়েছেন।’

তবে এখন পর্যন্ত ঘুরে দেখা ৬ টি হাসপাতালের মধ্যে এই দুটি হাসপাতালে তুলনামূলক কিছুটা ভাল পরিবেশ দেখা গেছে,তবে অনেক অভিযোগ আছে জানিয়ে জাকারিয়া দস্তগীর সিনিউজ অনলাইন কে বলেন, ‘দুই হাসপাতালেই আমরা এমডিকে পেয়েছি। তারা আমাদের ঘুরে দেখিয়েছেন হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোর ওয়ার্ড। দুই হাসপাতালে মোট ৯ টি আইসিইউ সচল আছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন। অবস্থা দেখে মনে হয়েছে তারা আমাদের ফেস করার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিলেন।’

নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফানুল আলম জিকু বলেন, দুই হাসপাতালেই করোনা পজিটিভ ও সাসপেক্টেড রোগীদের সেবা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আমাদের। এর মধ্যে ম্যাক্সে ৩৮ জন ও পার্কভিউতে ২৬ জন রোগীর আইসোলেশন চলছে।’

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম মানিক, সহ সম্পাদক সাব্বির সাকির প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *