১০ দিনেই প্রস্তুত চট্টগ্রামের ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার’

উত্তর চট্টগ্রাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসা খাতে ধুঁকতে থাকা চট্টগ্রামে এবার ১০ দিনেই আইসোলেশন সেন্টার বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিলো একদল স্বেচ্ছাসেবী। আইসোলেশন সেন্টারে করোনা পজিটিভ হওয়া ব্যাক্তিদের ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া যাবে রোববার থেকেই।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে আইসোলেশন সেন্টারটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেনে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা ৷

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের হালিশহরের প্রিন্স অব চিটাগং নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারকে আইসোলেশন সেন্টারের রুপ দেয়া হয়েছে৷ আইসোলেশন সেন্টারটিতে মোট শয্যার সংখ্যা ১০০টি৷ ‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার’ এর প্রধান উদ্যোক্তা সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। এছাড়াও এই উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন নগর ছাত্রলীগে সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিসহ ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও ছাত্র-চাকুরিজীবিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ৷

আইসোলেশন সেন্টারের উদ্যোগ নেয়ার ব্যাপারে সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক মালিকদের চিকিৎসা দিতে ক্রমাগত অসহযোগিতার কারণে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে গত একমাস ধরে। করোনায় আক্রান্তরা তো চিকিৎসা পাচ্ছেনই না, আক্রান্ত নন এমন রোগীরাও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় গত ২৪ মে একটি আইসোলেশন সেন্টার গড়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই।

তিনি আরও বলেন, দুদিন পর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন ভাইয়ের মাধ্যমে প্রিন্স অব চিটাগং কমিউনিটি সেন্টারের মালিককে উনার প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারে রাজি করাই। এর মধ্যে আরও ১০-১৫ জন আমার সঙ্গে নিজ আগ্রহে যুক্ত হন। ১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে কর্মপ্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করি। ৪ জুন থেকে আমরা ১০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার বানানোর কাজে নেমে পড়ি।

জানা গেছে, আইসোলেশন সেন্টারটির ১০০ শয্যার মধ্যে ৬৫ শয্যা প্রস্তুত হয়েছে। বাকি ৩৫টি শয্যা আগামী সপ্তাহে এসে পৌঁছবে। আইসোলেশন সেন্টারে অক্সিজেন, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, পালস অক্সিমিটার, নেবুলাইজার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা হয়েছে।

১২ জন চিকিৎসক ও ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক করোনায় আক্রান্তদের সেবা দেবেন। রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে পরিবহন করা হবে। আইসোলেশন সেন্টারে তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

‘করোনা আইসোলেশন সেন্টার’ এর সঙ্গে যুক্ত স্বাচিপ এর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আইসোলেশন সেন্টারে করোনায় আক্রান্ত মৃদু ও মাঝারি উপসর্গের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোববার থেকেই রোগী ভর্তি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম শহরে এই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য হাহাকার চলছে। এই মুহূর্তে আইসিইউ শয্যার চেয়েও বেশি প্রয়োজন এইডিইউ সেবা। সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রার অক্সিজেন প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। ভেন্টিলেটর নয়, হাইফ্লো নজল ক্যানুলা ও নন বিব্রেদার অক্সিজেন মাস্কের প্রাপ্তি নিশ্চিত করলেই তীব্র উপসর্গে ভুগতে থাকা রোগীদের জীবন বাঁচানো সহজতর হবে।’

উল্লেখ্য, আইসোলেশন সেন্টারের এই উদ্যোগের সাথে আরো ছিলেন নুরুল আজিম রনি, নাজিমুদ্দিন মাহমুদ শিমুল, আইনজীবী জিনাত সোহানা চৌধুরী, ইকরাম উল্লা, তৌহিদুল ইসলাম, গোলাম সামদানি জনি, সাবিনা আক্তার, সুমন চৌধুরী,ও টি আর খান, জাওয়াদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, জাফর আল তানিয়া,সাদ শাহরিয়ার, নুরুজ্জামান এবং তৌহিদুল ইসলাম ।

এদিকে, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী,কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ বিশিষ্টজনেরা ইতোমধ্যেই আইসোলেশন সেন্টারটি পরিদর্শন করে উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *