সামাজিক দূরত্বের ছিটেফোঁটাও নেই বোয়ালখালী উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রচ্ছদ বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

ইফতেখার হোসেন » চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউই, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে বিল পরিশোধ করতে আসা গ্রাহকদের।

বুধবার (১৭ জুন) পল্লী বিদ্যুতের বিল জমা দেয়ার সর্বশেষ দিন ছিলো। বরাবরের মতই উপচে পরা ভীড় ছিলো গ্রাহকদের। তবে পৃথিবী জুড়ে যে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের তান্ডব চলছে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুতে প্রবেশের পর তা যেনো ভুলে যেতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

দুপুর দুইটা নাগাদ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সিড়ি দিয়ে মূল প্রবেশপথে যেতেই হাতের বা পাশে অবস্থিত বিলিং শাখার সামনে মানুষের ভীড়ে দেখা যাচ্ছে না কিছুই।

পরবর্তীতে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে বিলিং শাখার কর্মকর্তারা ব্যস্ত আছেন গ্রাহকদের সমস্যা সংশোধনে এবং গ্রাহকেরা বিলিং শাখার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের বিলের অসঙ্গতিপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়তে ব্যস্ত।

তারই অপর পাশে যেখানে বিদ্যুৎ বিল জমা নেয়া হয় সেখানে একজন কর্মকর্তা দূরত্ব বজায় রেখে তাপমাত্রা মাপার মেশিন দিয়ে গ্রাহকদের পরীক্ষা করে প্রবেশ করাচ্ছেন ভেতরে। কিন্তু তাপমাত্রা মাপতে ব্যস্ত হলেও তারা কেউই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। বাহিরে বৃষ্টি এবং ভেতরের ভেপসা গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন অনেকেই।

পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজন চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “সকাল ১১টা থেকে বিদ্যুৎ বিল জমা দেয়ার জন্যে অপেক্ষা করছি কিন্তু মানুষের ভীড়ে সাহস করতে পারেনি লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধের। কেননা এখানে কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছে না।দীর্ঘ চার ঘন্টা পর দুপুর তিনটে নাগাদ বিল জমা দিতে পেরেছি”।

সারাদিন অপেক্ষা করে শারমিন আক্তার নামে একজন গৃহিনী চিৎকার করে সামনের দিকে থাকা কর্মকর্তাকে অনুরোধ করছেন যেনো পেছনে থাকা নারীদের দ্রুত বিল পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আব্দুল হাকিম। কর্মব্যস্ততা শেষে বিল দিতে এসে এমন পরিস্থিতি দেখে আতংকিত হয়ে বলেন, সরকার স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা দিচ্ছে,বারবার সাবধান করছে অথচ এখানে এসে মনে হচ্ছে মৃত্যুকুপে ঝাপ দিলাম।আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিলের কাগজটিও যায়নি। সেটা সংগ্রহ করতে আশা। অন্যথায় ব্যাংকের মাধ্যমেই পরিশোধ করতে পারতাম।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল বোয়ালখালীতে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় এবং এই সংবাদটি প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী ১৬ জুন পর্যন্ত ৬৭৮জনের নমুনা পরীক্ষা করে এখনও পর্যন্ত ৫০৯জনের ফলাফল পাওয়া গিয়েছে যার মধ্যে ২জন মারা গিয়েছেন,৪৪জন এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এবং বর্তমানে ১৮৯জন কোভিড-১৯ পজিটিভ আছেন।

করোনায় উক্ত উপজেলার এমন দৈন্যদশা অবস্থায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এমন বিশৃঙ্খলায় বোয়ালখালীতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি প্রবল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করছেন বিল জমা দিতে আশা ভুক্তভোগী জনসাধারণ।

বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এমন বিশৃঙ্খল কার্যক্রম সম্পর্কে বোয়ালখালী উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রফিকুল আজাদের কাছে বিস্তারিত জানতে তার অফিস কক্ষে গিয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *