‘সীমিত আকারে’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা

মতামত মুক্তচিন্তা

Sharing is caring!

শাহনেওয়াজ শাহীদ » বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর কার্যক্রম সীমিত আকারে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের এমন নির্দেশনা কতটুকু সন্তোষজনক তা নিয়ে এখনো নানা বিপত্তিতে শিক্ষার্থীরা । এদিকে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করায় অনেক শিক্ষার্থীর বিপাকে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনেকের পরিবারের আয় বন্ধ বা কমে যাওয়ার ফলে মোবাইল অপারেটরের মুল্য বৃদ্ধি, একইসাথে রেডজোনের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে অবস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোবাইল রির্চাজ বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে অনেকেই।

করোনাকালে যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে তথা পরিবহন, গন্থাগার, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ব্যবহার না করেও মোটা অংকের সেমিস্টার ফি দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? যদিও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন প্রকার শিক্ষাবৃত্তি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার পথ সৃষ্টি করছে। সেখানে অধিকাংশের বেশী নীরব থেকে সাধারণ কার্যক্রমের ধারায় নিজেদের মনোনিবেশে যোগ করছে।

অনলাইনে আলোচনার মাধ্যমে সামান্য ব্যাখা বিষয়ক আলোচনা করা গেলেও ব্যবহারিক বিষয়সমূহ, গণিত ও অন্যান্য বিষয় কতটুকু বোধগম্য হবে তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন আসছে। প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে সমস্যার সম্মুখীন হবে এছাড়াও ট্রাইমিস্টার ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তো থাকছেই।

বছরে তিনটি পর্বে ছ’বার পরীক্ষা ও বিষয় ভিত্তিক প্রতি পর্বে দুটি করে ক্লাসটেস্ট এবং দুটি করে এসাইমেন্ট অথবা প্রজেক্ট। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরী হচ্ছে নানা জল্পনা কল্পনা। এমনকি অনেকে ভুগছেন মানসিক অবসাদে। শুধু তাই নয় নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পড়ালেখার প্রক্রিয়া তাদের কাছে এখনো ধোঁয়াশা রয়ে গেছে । সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো পোস্ট দিয়ে সিনিয়রদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করেই মনের সন্তুষ্টি যোগাচ্ছে তারা।

উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই ট্রাইমিস্টার ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল পেইজের দেওয়া নোটিশ অনুযায়ী জুলাইয়ের প্রথম তারিখ থেকে শির্ক্ষাথীদের কথা না ভেবেই শুরু হতে যাচ্ছে অনলাইন ক্লাস। নগরীর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশিত নোটিশের কমেন্ট বক্সে এক শিক্ষার্থীর গ্রামের দূর্বল ইন্টারনেট কানেকশন ও ক্লাস বিষয়ে প্রশ্ন করায় উত্তর আসে “ব্রড ব্যান্ড কানেকশন গ্রহণ করলে অল্প গতিতেও জুম অ্যাপ্লিক্যাশন ভালো চলবে!” উত্তরটি রীতিমতো হাস্যকর হলেও তার বিপরীতে আরেক শিক্ষার্থী বলে উঠেন, ‘করোনাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি তো অনেক দূরে। ঘরে খাবার জুটানো যেখানে মুসকিল সেখানে ওয়াইফাই কানেকশন লাগানোর টাকা আসবে কোথা থেকে?’

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লাসের নীরব পরিবেশে যেখানে লেকচার ভাল করে বোঝার জন্য বারবার প্রশ্ন করার সুযোগ হয়, সেখানে দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগে পড়া বুঝে পুনরায় নাম মাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা আদৌ সম্ভব নয়। এদিকে জুম অ্যাপ্লিক্যাশন প্রতি ঘন্টায় গ্রুপ কলিং এর জন্য সাধারণত ৬৭৫-৮১০ মেগাবাইট এবং হাইগ্রাফিক্স ও সাউন্ড কোয়ালিটিতে ১.২- ১.৩৫ জিবি পর্যন্ত ডাটা চার্জ করে থাকে।

উদাহারণ হিসেবে গ্রামীণফোনে মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে কথা বললে, জুমে প্রতি ঘন্টায় ক্লাস করতে খরচ পড়ে ৬৯ টাকা। দিনে দুটো ক্লাস হলে যার মুল্য দৈনিক ১৩৮ টাকা, সাপ্তাহিক ৪ দিন ক্লাসে ৫৫২ টাকা এবং মাসিক আনুমানিক ২ হাজার ২০৮ টাকা।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এসবের তোয়াক্কা না করে আলাদা ভাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন শিক্ষার প্রসারের নামে ব্যতিক্রমভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমিত আকারে এই শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের কতটুকু জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করছে এটাই এখন জানার বিষয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *