ঋণ সহায়তা প্রদানে ব্যাংকের বর্তমান নীতির সমালোচনা করলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী

প্রচ্ছদ মতামত মুক্তচিন্তা

Sharing is caring!

ব্যাংকের অর্থ সংগ্রহ ও ঋণ সুবিধা প্রদানের নীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। করোনা মহামারির ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে ব্যাংকগুলোর এই নীতি ঢেলে সাজানোর দাবিও তুলেছেন তিনি। বর্তমানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোর যে অনাগ্রহ সে জায়গা থেকে ব্যাংকগুলোকে সড়ে আসার পরামর্শও দিয়েছেন তরুণ জনপ্রিয় এই মন্ত্রী।

মঙ্গবার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোষ্ট করা একটি স্ট্যাটাসে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন উপমন্ত্রী নওফেল।

ব্যাংক গুলো গরীবদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করলেও তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কোন ভূমিকা রাখছেনা দাবি করে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের সবার চেষ্টা একটি একাউন্ট খুলে দিয়ে শুধুই ডিপোজিট সংগ্রহের দিকে। জনগণের ক্ষুদ্র সঞ্চয় দিয়ে, বড় বড় বিনিয়োগেই তাদের বেশি আগ্রহ। সাধারন মানুষের ভোগ সক্ষমতা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য, ব্যক্তি পর্যায়ে ভোক্তা ঋণ সুবিধা, ক্ষুদ্র মাঝারি ব্যবসা বা শিল্পে অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর তেমন আগ্রহ দেখা যায় না, যা দেখা যায় নাম মাত্র। শাখা সমুহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, নির্বাহীদের বিশাল বেতন ভাতা, পরিচালকদের পেছনে বিশাল অংকের টাকা খরচে যতটা তারা আগ্রহী, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মূল শর্ত, সাধারন মানুষের ব্যক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র মাঝারি অর্থায়নে ততটা আগ্রহী তারা নয়। সব ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের নির্বাহীরা সবাই আসলে বাস্তবে বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। রিটেইল ব্যাংকিং পর্যায়ে ডিপোজিট সংগ্রহকেই তারা মনে করেন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, অর্থায়নে নয়।’ ব্যাংকের কার্যক্রম সচলে ভূমিকা রেখেও গরীব মানুষরা এর কোন সুবিধা পাচ্ছেনা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘ আমাদের টাকা ব্যাংকে সঞ্চয় হিসাব খুললেও আমাদেরই থাকতো না খুললেও আমাদেরই থাকতো। আমি হিসাব খুলে শুধু টাকা ব্যাংকে দিয়ে আসি, ব্যাংক আমাকে কি ঋন সুবিধা দেয় ব্যক্তি পর্যায়ে? আমি এখনো জামানত বিহীন ২০,০০০ টাকা থেকে ১০লক্ষ টাকার ঋণ পেয়েছেন এমন একজনকেও পাইনি। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাপারে অনেক আগেই অনুমতি দিয়েছে। হয়তবা কাগজে কলমে এই জামানত বিহীন ঋণের অস্তিত্ব আছে, কিন্তু এঁরা এতই বিরল, চোখে দেখা যায়না।’

করোনা মহামারির কারণে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই ধারার পরিবর্তন আনার দাবি তুলে মন্ত্রী লিখেছেন, ‘করোনা মহামারির অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠার অন্যতম কৌশল সাধারণ ব্যক্তির ভোগ সক্ষমতা বাড়ানো, যার মাধ্যমে আভ্যন্তরীণ ভোগের খাত বৃদ্ধি পাবে। ধনী ব্যক্তির ভোগ সক্ষমতা আরো ঋণ দিয়ে বাড়ানোর চাইতে সাধারণের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করলে ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে এবং দেশের আভ্যন্তরীণ ভোগ আরো শক্তিশালী হবে। তবে বর্তমান প্রেক্টিস হলো হবিগঞ্জ থেকে সঞ্চয় নিয়ে, গুলশানের ব্যবসায়ী কে ঋণ দেয়া। দামি গাড়ি বাড়ি ঘড়ির লোক না হলে ব্যাংক অর্থায়ন করেনা।’ এক্ষেত্রে উন্নত দেশ গুলোর উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে আমরা দেখি ব্যক্তি পর্যায়ে আমরা ছাত্র অবস্থাতেও টাকায় ২০,০০০ থেকে দশ লক্ষ টাকা সম্পুর্ন বিনা জামানতে ক্রেডিট স্কোরের ভিত্তিতে ঋণ পেয়েছি। ঋণ নিয়ে অনেকেই পড়াশুনা করেছে, নিজের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছে। আমাদের দেশে ছাত্রদের শিক্ষা ঋণ শুধুই বিজ্ঞাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, অথচ লেপটপ, কম্পিউটার কিনতে, টিউশন ফি দিতে, অনেক কিছুতেই ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারে, কিন্তু গরিবের সঞ্চয়ের অর্থে ধনীর গাড়ি কিনতে ঋণ দিতেই তাদের আগ্রহ বেশি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *