বৃষ্টি মানেই বিড়ম্বনা চট্টগ্রামে

চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক দুর্ভোগ প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

চট্টগ্রামঃ গত তিনদিন ধরে বন্দরনগরীতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিতে নগরীর হালিশহর, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, শুলকবহর, কাপাসগোলা, সিডিএ আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্নস্থান পানিতে তলিয়ে যায় দেখা যায় জলাবদ্ধতা।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ চলছে। সকাল থেকে থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। অলিগলি-ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি। সড়কে আটকা পড়েছে যানবাহন। চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন মানুষ। টানা বৃষ্টিতে দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতায় ফের ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রামবাসী।

নগরীর চকবাজার জামিলুর রহমান বলেন, সকালে কাজে বের হয়ে বিপদে পড়েছি। টানা বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেই সঙ্গে নেই পর্যাপ্ত গণপরিবহন। অনেক জায়গায় ফুটপাতও তলিয়ে ছিল। প্রতিবছর যদি একইভাবে জলাবদ্ধতা হয় তাহলে সেবা সংস্থাগুলো কি করে? এর একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত। গতকাল আরও বেশি জলাবদ্ধতা ছিল, শহরের রাস্তা-ঘাট দেখে মনে হচ্ছে সড়কেই যেন নদীর ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে!

পথচারী রফিক রাসেল বলেন, টানা বৃষ্টিতে কাপাসগোলা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা দিয়ে যখন গাড়ি আসছে তখন মনে হচ্ছে এটা কোনো সড়ক নয় যেন খাল। প্রতিবার এমন জলাবদ্ধতা হয় কিন্তু নাগরিক সমস্যা সমাধানে কেউই কাজ করে না। আজ সারাদিন বৃষ্টি, সড়কে পানি জমাট, এর মধ্যে আবার গণপরিবহনও কম। সবমিলিয়ে সারাদিন ধরে নগরবাসী ভোগান্তিতে দিন পার করছে।

জোয়ারের পানি ঢুকে আগ্রাবাদ ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।

হাসপাতাল ওয়ার্ড মাস্টার আলমগীর হোসেন বলেন, জোয়ার এলেই নিচতলা ডুবে যাচ্ছে। প্রতিদিন দুইবার পানি ঢুকছে। নিচতলার আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা উপরের তলায় বসে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, চট্টগ্রামে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এতে সমুদ্রবন্দরের জন্য ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত এবং নদী বন্দরের জন্য ১ নম্বর সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে যানবাহন ছিল কম। সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা কম থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হয়েছে যাত্রীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *