কল করলেই পাশে পাবেন অমিতাভ চৌধুরীর অক্সিজেন সেবা

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রাম : ‘মানুষ মানুষের জন্য; জীবন জীবনের জন্য’ এই কথাটিকেই যেন মূলমন্ত্র করে মাঠে নেমেছিলেন অমিতাভ চৌধুরি বাবু। মধ্যরাত কিংবা মধ্যদুপুর ফোন পেলেই প্রাণ বাঁচাতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন অমিতাভ চৌধুরি বাবু।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই ভুগছেন শ্বাসকষ্টে। দেশের হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সিলিন্ডার না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকছেন তারা। করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি।

মুমূর্ষ রোগীরদের অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও অক্সিজেন পাচ্ছে না, আবার অনেকের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় অক্সিজেন সুবিধা নিতে পারছে না। হাসপাতালে সুবিধা না পেয়ে বাড়তি দামের কারণে অনেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারও কিনতেও পারছে না। এতে অনাকাঙ্খিতভাবে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

অমিতাভ চৌধুরি বাবু জানান, চট্টগ্রামে শ্বাসকষ্টের রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাকে খুবই ব্যাথিত করেছে। আমার বাবাকে বাঁচাতে পারিনি। কিন্তু আমিতো চাইলে কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারি। সেই চিন্তা থেকেই ২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করে সেবা কার্যক্রম শুরু করেছিলাম, বর্তমানে ৯টি সিলিন্ডার সহকারে কাজ করে যাচ্ছি। শুরুতেই বিশাল কোনো কাজ করতে না পারলেও ভালবাসা দিয়ে ছোট ছোট অনেক ভাল কাজ, বড় কাজে রুপান্তর করা সম্ভব।

একটি মানুষ যখন সবাইকে ভালবাসতে শিখবে, সবার কল্যাণে কাজ করে যাবে- জীবনের ক্রান্তিলগ্নে গিয়ে দেখবে মানুষের ভালবাসায় তিনি আকণ্ঠ ডুবে থাকেন। অমিতাভ চৌধুরি সে ভালবাসা পাবারই যোগ্য এক মানুষ।

করোনা ভাইরাসে মহামারি প্রভাবে সৃষ্ট সংকটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানবতার সেবায় অবিরাম ছুটে চলেছেন তিনি। করোনার প্রকোপ শুরুর প্রথম থেকে মাস্ক ও হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করেন। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত চলে অসহায় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মাঝে খাবার ও ত্রান বিতরণ। যখনি ফোন পেয়েছেন মানুষ অক্সিজেনের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে তখনই ছুটে গিয়েছেন ফ্রি অক্সিজেন সেবা নিয়ে। এ যেনো প্রতিনিয়ত এক মানবতার ফেরিওয়ালার পরিচয়ে পরিচিত নগরবাসীর কাছে।

অমিতাভ চৌধুরি জানান, যে মন কর্তব্যরত নয় সে মন অনুপভোগ্য। যখন করোনা পজিটিভ শুনেই মানুষ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে চলে যাচ্ছে, তখন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, ঔষুধসহ চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে আমি তাদের পাশে গিয়ে দাড়িয়েছি। যখনি আক্রান্ত পরিবারের ফোন পেয়েছি সাথে সাথেই তাদের সব রকমের সেবা দিতে চেষ্টা করেছি।

তার এলাকাবাসীরা জানায়, আমাদের সমাজের জন্য তো এমন মানুষই দরকার। তিনি তো কুসুমকুমারী দাশে’র কবিতার সেই ‘আদর্শ ছেলে’। যে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হতে চায় ! মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন নিয়ে “মানুষ” হবার পণ করে, মানুষের জন্য কাজ করার মন নিয়ে এগিয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অমিতাভ চৌধুরি’র মতো মানুষ খুব প্রয়োজন। জাতীয় দুর্যোগে তার মতো মানুষই দিশা হয়ে দাঁড়াবেন। যে কাজ শুরু করেছেন তা করবার জন্য শক্তি যেন সব সময় অক্ষত থাকে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

এএ/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *