হালিশহর আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা করোনায় আক্রান্ত

অন্যান্য সংবাদ চট্টগ্রাম মহানগর

Sharing is caring!

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নিজেই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলেন নগরীর হালিশহরস্থ করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’র প্রধান উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাত হোসেন।

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে তার করোনা ধরা পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি তার করোনা পজেটিভে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রিপোর্ট পজেটিভ। হে আল্লাহ তুমি আমাদের ক্ষমা করো।’

গত চারদিন ধরে তার শরীরে জ্বর, গলাব্যথাসহ করোনার নানা উপসর্গ দেখা দিলে করোনা টেস্টের জন্য গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে নমুনা দেন সাজ্জাত হোসেন। বুধবার সন্ধ্যায় তার করোনা-পজিটিভ রিপোর্ট আসে। গত তিনদিন ধরে নিজ আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন থাকলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মো. সাজ্জাত হোসেন সকালে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘গত ২দিন আগ থেকে মারাত্মক জ্বর। ১০৫ ডিগ্রি। কোনোভাবে কমছে না। ঘুমাতেও পারছি না। ঔষধ ও সাবোসিটার কোনোটায় কাজে আসছে না। এর মধ্যে কার্ডিনেক্স ৬০ দেওয়া শুরু হয়েছে। অস্বাভাবিক জ্বরের কারণে ডাক্তার মিনহাজ ভাই জেনারেল হসপিটালে আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি বলেছেন- জ্বর না কমলে যেকোন সময় খিচুনি হতে পারে। সেটা খারাপের দিকে যাবে। রাতে এম্বুলেন্স পাঠাতে চেয়েছিলো। আমি বলেছি আজ দুপুর পর্যন্ত দেখি।’

সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লিখেন, ‘এই সেন্টার ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। এছাড়া গতকাল রাত থেকে অক্সিজেন সেচুরেশন ৮৯। অক্সিজেন লাগিয়ে রেখেছি। আজ সকাল থেকে একটু ভালো লাগছে। সবাই দোয়া করবেন।’

করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম’র অন্যতম তরুণ উদ্যোক্তা ও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেন, আমাদের আইসোলেশন সেন্টারে আজ একজন চিকিৎসক ও দুইজন সেচ্ছাসেবক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে প্রধান উদ্যোক্তা সাজ্জাদ ভাই, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন নার্স, ৫ জন সেচ্ছাসেবক ও ১ জন করোনা টেস্টের কীট সংগ্রহকারীসহ সর্বমোট ৯ জন করোনাযোদ্ধা সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলেন। এমন সংকটের মধ্যেও থেমে নেই আমাদের যুদ্ধ। এ যুদ্ধ চলছে, চলবে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসের শেষের দিকে সারাদেশে করোনা-সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। সে সময়ে করোনা আক্রান্ত রোগীরা কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিলেন। আবার যারা করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাদের কবর বা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষ শ্রদ্ধা জানাতেও বাঁধা হয়ে দাড়ায় সমাজের মানুষ। ঠিক সে সময়েই চট্টগ্রামের করোনা রোগীদের সেবায় প্রথম এগিয়ে আসেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, কয়েকজন শুভার্থী ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় চট্টগ্রামে গড়ে তুলেন দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল।

তার পথ ধরে আরও যারা করোনা রোগীর সেবায় আইসোলেশন সেন্টার গড়তে এগিয়ে আসেন প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাত হোসেন তাদের অন্যতম। শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা ও তারুণ্যশক্তিতে গড়ে তুলেন করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম।

এএ/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *