সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকার ফ্লাইওভার, নজরদারি নেই কর্তৃপক্ষের

চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক দুর্ভোগ প্রচ্ছদ

Sharing is caring!

চট্টগ্রামঃ সন্ধ্যা হলেই নগরীর আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে নেমে আসে অন্ধকার। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে গাড়িচালকেরা। ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। গত বছরের ১ ডিসেম্বর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে (চসিক) ফ্লাইওভারটি হস্তান্তর করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। সিটি করপোরেশন দায়িত্ব নেয়ার পর ফ্লাইওভারের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি, বিপদজ্জনকভাবে পড়ে থাকা ডিভাইডার, ছিনতাই ও সড়কবাতির আলো না জ্বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তা নিরসনের উত্তম কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি চসিকের পক্ষ থেকে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাতের বেলা ফ্লাইওভারের উপর সড়ক বাতিগুলো জ্বলছে না। ফলে ছিনতাইসহ বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী ও গাড়ি চালকরা।

এই ফ্লাইওভার দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারীরা যানবাহনের চালকরা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যার পর স্থাপিত সড়কবাতিগুলো না জ্বলার কারণে অন্ধকারের মধ্যে বিভিন্ন লুপের সংযোগস্থল শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

তারা বলছেন, এখন সন্ধ্যার পর অর্ধেকেরও বেশি বাতি জ্বালানো হচ্ছে না। পাশাপাশি যাত্রীদের ছিনতাইয়ের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিইসি এলাকার বাসিন্দা হোসেন মিয়া বলেন, এমনিতেই ফ্লাইওভারের উপর বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা এখানে অনেকটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার উপর যদি সড়কবাতি না জ্বলে তাহলে দূর্ঘটনা দিনকে দিন বাড়তে থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে মুঠোফোনে যোগযোগের চেষ্টা করা হলেও অপর পাশ থেকে কোন সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে প্রায় ৬৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শুরু হয় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের। ২০১৯ সালের প্রথম দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সড়কটি। তবে বৃষ্টি হলেই পানি নামতে না পেরে ফ্লাইওভারে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তার ওপর এখন সৃষ্টি হয়েছে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ।

যদিও এই ফ্লাইওভার ব্যবহারে যানজট অনেকটা কমে এসেছে, তবে আলো না থাকার সুযোগে চুরি হচ্ছে মূল্যবান লোহা ও স্টীলের রেলিং পাইপ, বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও লাইট। চোর ও অপরাধীচক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে চলেছে এই ফ্লাইওভার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *