শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন ভিখারির বেশ ধারণ করে !

মতামত মুক্তচিন্তা

Sharing is caring!

শাহনেওয়াজ শাহীদ : করোনাকালে আর্থিক সংকট নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ভয়াবহ এই দুর্যোগের সময়ে সংসারের খরচ মেটাতে মানুষ যখন তার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দিচ্ছে, তখন বড় বড় নামি-দামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ড বা ট্রাস্টি বোর্ড থাকা স্বত্তেও কেনো তারা শিক্ষার্থীদের উপর বেতন আর সেমিস্টার ফি প্রদানের চাপ সৃষ্টি করছে, তার কোনো উপযুক্ত হদিস মিলছে না।

সম্পৃতি যেখানে অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকার ওয়েভার স্কিম চালু করে শিক্ষার্থীদের স্বস্থির আশ্বাস দিয়েছে অপরদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে “টাকা দাও টাকা দাও” এর মত অবস্থার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি রীতিমতো হাস্যকর হলেও তা বাস্তব।

প্রাইমারি থেকে শুরু করে মাধ্যমিক পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটলে তা মান্য হতো। কারণ তাদের ৩’শ, ৪’শ টাকা করে শিক্ষার্থীদের কাছ গৃহিত বেতনই তাদের সম্বল। কিন্তু বিষয়টি দেশের নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায় তখন তা নতুনভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয় যে, একি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি আদৌ কিন্ডারগার্টেন স্কুল।

স্কুল-কলেজের তদারকি শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় তাদের আগামী নির্দেশনা অনেকাংশেই মন্ত্রণালয় থেকে হয়ে থাকে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে তা ইউজিসি তত্ত্বাবধানে থাকায় কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজের মন-মতো কোনোভাবে সেমিস্টার শেষ করে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যেখানে, চার মাসের সেমিস্টার তিন মাসে শেষ করা হচ্ছে। নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলেও অনলাইনে মূল শিক্ষার কোনো ‘জো’ নেই। দিনশেষে মোটামুটি একটি সিজিপিএ দিয়ে টাকা হাতে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি।

যেখানে ঘরে বসে উচ্চহারে ইন্টারনেট খরচ বহন করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এমনকি টয়লেট পর্যন্ত ব্যবহার না করে শিক্ষার্থীরা নামমাত্র শিক্ষায় অংশগ্রহণ করছে সেখানে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের “টাকা দাও” এর ন্যায় আচরণ এবং কোনোরুপ ওয়েভার প্রদান না করা প্রতিষ্ঠান গুলোকে ভিখারির বেশে উপস্থাপন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *