সন্দ্বীপে যুবলীগ নেতার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা

উত্তর চট্টগ্রাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম

Sharing is caring!

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও রহমতপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেনের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলার মিনিট পাঁচেক আগে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে বের হওয়ার পরই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আকবরের পরিবার।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আকবরের বসতবাড়ির বেড়া ও দরজা কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে সন্ত্রাসীরা। এছাড়াও বাড়ির সামনে থাকা আকবরের একটি ট্রাকেও আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।

আকবরের বাড়ি ছাড়াও একই কায়দায় অন্তত ৩টি বাড়িতে পুলিশি অভিযান ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরমধ্যে রহমতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. ইয়াসিনের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বের হওয়ার পর সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকে ডাক্তার ইয়াসিনকে মারধর করেছে বলেও জানা জানা যায়।

এসব হামলার জন্য স্থানীয় পারভেজ, বাবলু, করিম, কামরুল, জামাল, জিহাদ, শাখাওয়াত, শফিক, সাইফুল, রাকিব, মাকসুদকে দায়ী করছেন আকবরের ছোট ভাই তারেক।

তারেক বলেন, ‘পরশু আমাদের এলাকায় একটা গণ্ডগোল হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় আমার বড় ভাইকে ওইদিনই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রাতে তারা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালায়। পুলিশ বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই একদল সন্ত্রাসী বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ করে, তারা আমাদের ঘরের বেড়া-দরজাতে এলোপাতাড়ি কোপায়। আরও ৩-৪টি বাড়িতে একইভাবে হামলা চালানো হয়েছে।’

তবে এই হামলার জন্য উল্টো আকবরের পরিবারের সদস্যদেরই দুষছেন সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশির আহমেদ খান।

তিনি বলেন, ‘মামলার আসামি ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে স্থানীয় অনেক লোকজন জড়ো হয়েছে। এটি হয়তো আকবরের পরিবারের লোকজন মানতে পারেনি। তাই উল্টো মামলা দেওয়ার জন্য তারা একটা নাটক সাজিয়েছে।’

তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন পরশু যে দুইপক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল হয়েছে তাদের দুইপক্ষই সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতার অনুসারি। নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় এক নেতা পরিকল্পিতভাবেই প্রশাসন ও সন্ত্রাসীদের দিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

প্রসঙ্গত গত বেশ কিছুদিন ধরেই সন্দ্বীপের
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।এর মধ্যে মুছাপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে ঘরে থাকা যুবককে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করা। মগধরায় নদীতে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে গুলি ছুড়ে ১৫ জেলেকে জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন। রহমতপুরে পুলিশী অভিযানের পরপরই যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা, ট্রাকে আগুন ও পৌরসভা ৪ নং ওয়ার্ডের মোটরসাইকেল আগুনে পোড়ানো, পাশাপাশি ২ টি ছাগলকে জ্যান্ত পুড়ে হত্যার ঘটনাও রয়েছে। তবে কোন ঘটনার বিষয়ে কোন মামলা বা আইনি ব্যবস্থা নেয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন সন্দ্বীপ থানা পুলিশের কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অনেকক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনায় পৃষ্ঠপোষকতাও করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *